বেবি হওয়ার পর করণীয় কাজগুলো কি

বেবি হওয়ার পর করনীয় কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নবজাতক শিশু জন্ম নেওয়ার পরে বেবির কাছে মানুষজন না যাওয়াই ভালো। অনেকের ধারণা যে নবজাতককে অথবা বেবি কে না দেখতে গেলে হয়তো বা তাদের আত্মীয়-স্বজন রাগ করবেন। তবে বেবি জন্ম নেওয়ার ৪০ দিন পরে দেখতে যাওয়াই ভালো। কারণ বেবির নাভির নারী শুকিয়ে যাওয়ার পর দেখতে গেলে ভালো হয়।
বেবি হওয়ার পর করণীয়
তবে বেবি হওয়ার পর করণীয় কাজগুলোর মধ্যে ৪০ দিনের মধ্যে বেবিকে দেখতে না যাওয়াই ভালো। তবে যে সকল আত্মীয়-স্বজন একেবারেই না গেলে না তারা যেতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বেবি হওয়ার পর করণীয় কাজগুলো কি কি হতে পারে। সেগুলো নিজের পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ পোস্টটি না টেনে ধৈর্য সহকারে পড়ার চেষ্টা করুন।

ভূমিকা

বেবি হওয়ার পর করনীয় কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নবজাতকের মা যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারেন সে বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় আত্মীয়-স্বজনদের বেশি আনাগোনা করা যাবে না। যাতে মায়ের বিশ্রাম নিতে সমস্যা না হয়। ফোন ঘুমাতে না পারার কারণ্‌ বসে থেকে কথা বলার জন্য, মাজা ও কোমরে ব্যথা হতে পারে এই কাজগুলো বন্ধ করতে হবে। বেবি হওয়ার পর করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে নিচের পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বেবি হওয়ার পর করণীয়

বেবি হওয়ার পর নবজাতক মায়ের শরীরের চরম যত্ন নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম পুষ্টি ও ঘুমের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এই সময় শরীর বেশ কিছু পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। এ সময় নবজাতক শিশুর সাথে সাথে মায়ের শারীরিক পরিবর্তনগুলো খেয়াল করেন। এই সময় আপনি অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন। 
যেমনঃ কোষ্ঠকাঠিন্য, স্তনে ব্যথা, গরম এবং ঠান্ডা ঝলকানি, ওজন রাস, ইত্যাদির সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেনা। প্রধানত যারা প্রথমবার মা হন, তারা শিশুকে খাওয়ার ব্যাপারে অনেক কিছুই জানেনা। পরিবারের বড়দের দায়িত্ব হল সেই বিষয়গুলো নবজাতক মাকে শিখিয়ে দেওয়া। বেবিকে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে এক গ্লাস পানি এবং দুধ খাওয়ানোর পরে এক গ্লাস পানি খেতে হবে। 

এছাড়াও নবজাতক মায়ের যতই ব্যাঘাত ঘটবে। নবজাতক ততটাই কম খেতে পারবে। সেজন্যই একজন মাকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি বিশ্রাম নিতে হবে নিয়মিত। বেবি হওয়ার পর মাকে প্রতিদিন এক থেকে দেড় লিটার পানি পান করতে হবে। তাহলে খাবার হজমের সুবিধা হবে। এইভাবেই বেবি হওয়ার পর কাজগুলো করতে হবে।

নরমাল ডেলিভারির পর জরায়ুর যত্ন

নরমাল ডেলিভারির পর জরায়ুর যত্ন জন্য এই সময় আরামদায়ক সেনেটারী প্যাড বা ম্যাটারনিটি প্যাড ব্যবহার করুন। এই সময় কিছুদিন রক্তস্রাব যেতে পারে। যোনিপথে ঢোকাতে হয় এমন কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এগুলোর কারণে ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়াও যেকোনো ধরনের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এছাড়াও ভারী রক্তপাত হলে অথবা জ্বর, তলপেটে ব্যথা, দূর্গন্ধযুক্ত স্রাব গেলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এটা একটা ইনফেকশনের কারণ হতে পারে।

প্রসবের পর মায়ের খাবার

প্রসবের পর মায়ের খাবার সম্পর্কে জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা বলেছেন মায়ের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা ভীষণ জরুরী। মা হওয়ার পর থেকে যতদিন বাচ্চারা ব্রেস্ট ফিট করছে ততদিন পর্যন্ত মায়ের স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ এখানে মায়ের শরীরের পুষ্টি থেকে কিন্তু একজন শিশু পুষ্টি পায়। যেসব খাবারের মধ্যে শিশুরা পুষ্টি পেতে পারে সে সকল খাবার মায়েদের খাওয়া প্রয়োজন। এই সকল পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন পুষ্টিবিদরা। 
প্রসবের পর মায়েদের প্রতিদিন টাটকা সবজি এবং ফল খাওয়া প্রয়োজন। এর ফলে ব্রেস্ট মিল্ক এর পরিমাণ বাড়ে। এছাড়াও ব্রাউন রাইস, পাস্তার পাশাপাশি প্রোটিন হিসেবে ডিম, মাছ ,মাংস, ডাল এগুলো খাবারের তালিকায় রাখা প্রয়োজন। শিশুর শরীরে যেন ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কম না হয় সেজন্য দুগ্ধ জাতীয় খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। নতুন মায়ের ন্যূনতম .৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে প্রতিদিন।

নরমাল ডেলিভারির পর পেট কমানোর উপায়

নরমাল ডেলিভারির পর পেট কমানোর উপায় সম্পর্কে বলতে গেলে সাধারণত গর্ভাবস্থায় পেটের আকার স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। শরীরকে গর্ভধারণের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রয়োজনমতো খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সাধারণত ডেলিভারির পর প্রথম ৬ সপ্তাহ ব্যায়াম না করাই ভালো। 

পেট কমানোর জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খান। খাদ্য তালিকায় যেমন, ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার। এগুলো আপনার পেট কমাতে সাহায্য করবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। কোন সময় না খেয়ে থাকা যাবে না। এছাড়াও শরীর কমানোর জন্য বা পেট কমানোর জন্য বেলি বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন।

নরমাল ডেলিভারির পর জরায়ুর অবস্থা

নরমাল ডেলিভারির পর জরায়ুর অবস্থা বিশেষ করে প্রসবের রাস্তার উপর অনেক ধকল যায় তাই ডেলিভারির পর শরীরের সঠিক যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জরায়ু স্বাভাবিক আকারে আসার প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে পারবেন না বা এর জন্য কোন চিকিৎসা নেই। 
তবে আপনি অবশ্যই এই সময়ে হওয়া ক্রিমগুলো হ্রাস করতে পারেন। এইজন্য আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও নরমাল ডেলিভারির পরে গরম শেখের মাধ্যমে ব্যথা কমাতে পারেন। এ সময় শারীরিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। নরমাল ডেলিভারির পরে সিডিউল অনুযায়ী অন্তত ৪ বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

লেখকের শেষ কথা

পরিশেষে বলতে গেলে এই পোস্টটি থেকে যা জানতে পারলাম বেবি হওয়ার পর করনীয় কাজগুলো কি কি হতে পারে? তার মধ্যে শুধু নবজাতক শিশুর যত্ন নিলেই হবে না মাকেও নিজের যত্ন নিতে হবে। মৌসুমী শাকসবজি, ফল, পানি জাতীয় খাবার, কালোজিরা নিয়মিত খেতে হবে। মা ও শিশুর উভয়ের হাতের নখ ছোট রাখা উত্তম। এই সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো নবজাতক শিশু ও মা দুজনই রৌদ্রে থাকতে হবে। তাহলে শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ বাড়বে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url