দ্রুত মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানুন

আমাদের দৈনিন্দর জীবনে সব ধরনের বয়সের নারীদেরই অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা হয়ে থাকে। সাধারণত আমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত নারী আছে তাদের জন্য। যে সকল নারীদের অনেক বেশি স্ট্রেস, পরিশ্রম, শারীরিক দুর্বলতা, এছাড়াও জীবনযাত্রার বড় ধরনের কোন পরিবর্তন গুলোর কারণে অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে।
দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায়
এই পোস্টটিতে আপনাদের জন্য দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে।

ভূমিকা

দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানার আগে এর প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব জেনে রাখা ভালো। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যার সময় নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা তা সময়ের আগে করতে চায়। প্রাপ্তবয়স্ক একজন কিশোরী কিংবা তরুণী নিয়মিত ও সময়মত পিরিয়ড বা মাসিক হওয়াটা স্বাভাবিক হয়ে থাকে। এটা না হয়ে যদি অনিয়মিত হয়ে পড়ে তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার শরীরে কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য এই পোস্টটি আলোচনা করা হয়েছে।

দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায়

দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে চিকিৎসকরা সাধারণত হরমোন থেরাপি দিয়ে থাকেন। যেটাকে সাধারণত সবাই পিল নামে চিনে থাকে। কিন্তু এই ধরনের পিলে অনেক সাইড ইফেক্ট থাকে। যেমনঃ মোটা হয়ে যাওয়া, খাবারের অরুচি, পিম্পল, মাথা ব্যথা, পা ব্যথা, পেট ফাঁপার সহ নানা ধরনের অসুবিধা দেখা যায়।
আমরা সাধারণত দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য অনেক ধরনের ঔষধ খেয়ে থাকি। এই সব ওষুধের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। আমাদের প্রকৃতিতে এমন কিছু সুবিধা দিয়ে রেখেছে যেগুলো গ্রহণ করলে আমরা ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় এর মধ্যে বেশ কিছু প্রাকৃতিক নিয়ম আছে সেগুলো হল। 

একটা লেবু, টমেটো, কমলালেবু, ব্রোকলি, কিউই ফল ইত্যাদি বাজারে খুব সহজে পাওয়া যায়। এইগুলো প্রতিনিয়ত খেতে পারেন। এছাড়াও আরও একটি উপায় রয়েছে সেটার জন্য আপনাকে যে কোন প্যাকেট বা বোতলে গরম জল নিয়ে প্রত্যেকদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত তলপেটে গরম ভাব দিতে হবে। এই উপায়গুলো অবলম্বন করলে দ্রুত মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

দ্রুত মাসিক হওয়ার ১০টি ঘরোয়া উপায়

দ্রুত মাসিক হওয়ার ১০ টি ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
  1. দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় এর মধ্যে পার্সলে অন্যতম প্রতিদিন 6 গ্রাম করে শুকনো পার্সলে খেতে পারেন। এতে অনেক উপকার পাবেন।
  2. সঠিক সময়ে মাসিকের জন্য পেঁপের সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে পেপে।
  3. চা অথবা টাটকা আদার রস আকারে কিছু মধু বা মধুর পাশাপাশি কাঁচা আদা খাওয়া যেতে পারে। এই আদার রসের মাধ্যমে দ্রুত মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়।
  4. দুই কাপ পানিতে এক চামচ ধনে গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে হবে।
  5. ঘৃতকুমারী (Aloe Vera) রস সাধারণত অস্থির পেটে প্রশমিত করতে ব্যবহৃত হয়, এটি থেকে জেলটি বের করে এক চামচ মধু মিশ্রণ করে এটি খেয়ে ফেলুন।
  6. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান। যেমনঃ গাজর্‌ গুড়, হলুদ, খেজুর, কুমড়া, ছোট মাছ, কাজুবাদাম, আনারস, আঙ্গুর, দই এইগুলো খেতে পারেন দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য।
  7. যেকোনো ধরনের টক জাতীয় ফল খেতে পারেন। যেমনঃ তেতুল, জলপাই, মালটা ইত্যাদি।
  8. এছাড়াও অ্যাপেল সিড ভিনেগার দ্রুত মাসিক হওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবে কাজ করে।
  9. এছাড়াও দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য আপনি দারুচিনি সাথে রাখতে পারেন। এটা একটা অন্যতম উপকারী জিনিস।
  10. দ্রুত মাসিক হওয়ার জন্য আপনি রেগুলার ব্যায়াম করতে পারেন অথবা মেডিটেশন করতে পারেন এইটার মাধ্যমে আপনার মাসিক দ্রুত হয়ে যাবে।

মাসিক হওয়ার ট্যাবলেট এর নাম

মাসিক একটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। অনেক সময় আপনার মাসিক অনিয়মিত হতে পারে এটাকে নিয়মিত করার জন্য যে কৃত্রিম উপায়ে ওষুধ সেবন করেন সেটা স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। তবে যখন একেবারে উপায় থাকবেনা তখন আপনি ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন। মাসিক নিয়মিত করার জন্য অনেক কোম্পানি অনেক ধরনের ওষুধ সেল করে থাকে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঔষধের নাম গুলো হলঃ নরমেন্স ৫ এমজি। সাধারণত এই ট্যাবলেটটি শরীরের ন্যাচারাল হরমোনের উপর কাজ করে থাকে। দ্রুত মাসিক হতে সাহায্য করে।

কি খেলে পিরিয়ড তাড়াতাড়ি হয়

পিরিয়ড তাড়াতাড়ি খাওয়ানোর জন্য আপনি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে পারেন। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, কমলা, বেরি, ব্রকলি, পালং শাক, পেঁপে, টমেটো সহ অনেক ধরনের ভিটামিন সি খাবার। এই খাবার গুলোর মাধ্যমে পিরিয়ড তাড়াতাড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেখকের শেষ কথা

পরিশেষে বলতে গেলে দ্রুত মাসিক হওয়ার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেক তথ্য জেনে ফেলেছি তার মধ্যে আমরা অবশ্যই বুঝতে পেরেছি যে ঘরোয়া পরিবেশের মাধ্যমে যেগুলো ওষুধ অথবা প্রাকৃতিক ওষুধগুলো আমাদের শরীরের জন্য বেশি উপকারী। এই ধরনের প্রাকৃতিক ঔষধ গুলো সেবন করার পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। এছাড়াও আমাদের ওয়েব সাইটটি ফলো দিয়ে রাখুন নতুন নতুন পোস্ট আপডেট পাওয়ার জন্য।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url